লাবণ্য তৃষ্ণা – সংখ্যা ১.০.৭

পীযুষ যখন শেষের দিকে বিছানায় পড়ে গেলেন, তখন অরিন্দম স্কুলের পড়ায় ডুবে আছে। বয়সের অঙ্ক তখন খুব বড় নয়; তবু বাস্তব তাকে আগেভাগেই প্রাপ্তবয়স্ক করে তুলছিল। ঘরে ওষুধের গন্ধ, ডাক্তার দেখানোর চিন্তা, টাকা জোগাড়ের উৎকণ্ঠা—সব মিলিয়ে ঘরের বাতাস যেন একটু ভারী হয়ে উঠছিল। অরিন্দম যতটা বোঝার বয়সে পৌঁছেছে, ততদূরেই বুঝে ফেলেছিল—জীবনটা তার জন্য কোনো সহজ ছক কেটে রাখেনি। বন্ধুদের অনেকেই তখনও শুধু পড়াশোনা আর খেলাধুলার ভেতর সীমাবদ্ধ, আর সে নিজের ভবিষ্যৎ আর পরিবারের বর্তমানের মাঝে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত এক চাপ অনুভব করছিল।

পীযুষ মারা গেলে ঘরের অন্দরে যেন এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হলো। তার অনুপস্থিতি শুধু একটা চেয়ারের ফাঁকা জায়গা নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাসের ভাঙন— রাতে খাবারের টেবিলে একটা প্লেট কম, রাতে দরজা খোলার সময় আর কোনো জুতোর ক্যাঁকানো শব্দ না-শোনা, ভোরবেলা হালকা কাশির আওয়াজের হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। নীলিমা নিজেকে শক্ত করে ফেললেন। ভেতরে কেমন ভেঙে পড়েছেন, তা কাউকে দেখাতে চাইতেন না; চোখের জল লুকিয়ে রাখতেন রান্নাঘরের ভাপ আর ধোঁয়ার আড়ালে। সংসার থেমে যায় না—এই কথাটা তিনি যেন নিজেকে প্রতিদিন বলতেন, আর সেই বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে সকালে ঘর গুছাতেন, দুপুরে রান্না করতেন, রাতে ছেলের পাশে বসে খাতা দেখতেন।

অরিন্দম আরও নিঃশব্দ হয়ে উঠল। সে কথা বলতে চাইত, মনে অনেক প্রশ্ন জমত, অনেক অভিমান, অনেক ভয়—তবু মুখ খুলত না। নিজের অনুভূতিগুলো একটি তালাবদ্ধ বাক্সের মতো বুকের ভেতর জমতে লাগল, আর তালার চাবিটা সে নিজেই কোথাও লুকিয়ে রাখল, যেন আর কেউ খুঁজে না পায়। পাড়ার সব রকম হইচই, ঠাট্টা, খেলাধুলা তার কাছে এখন একটু দূরের মনে হত। তবু একদম অন্ধকারে সে ডুবে যায়নি—তার জীবনে একজন মানুষ ছিল, যে তাকে বারবার টেনে বের করে আনত। সে মানুষটি হলো জয়ন্ত। জয়ন্ত একদম অন্য রকম ছেলে। চঞ্চল, প্রাণবন্ত, হাসিখুশি—যে কোনো পরিবেশে ঢুকে কথাবার্তা আর হাসির ঝড় তুলে দিতে পারে। পাড়ার ক্লাবঘরে, ক্রিকেটের মাঠে, কিংবা গলির দোকানের সামনে—যেখানে ভিড়, সেখানে জয়ন্তের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত। তার সঙ্গে অরিন্দমের বন্ধুত্ব যেন বিপরীত প্রান্তের সেতু—একজন বেশি বলে, অন্যজন বেশি শোনে; একজন বাইরে যতটা হৈচৈ করে, অন্যজন ভেতরে ততটাই চুপচাপ থাকে। হয়তো এই বিপরীতটাই তাদের সম্পর্ককে এত ঘনিষ্ঠ করে তুলেছিল।

জয়ন্ত মাঝে মাঝে অরিন্দমকে খোঁচা দিয়ে বলত,
“তুই এমন গম্ভীর কেন রে? মানুষ দুঃখ করেই জন্মায়, কিন্তু হাসতে শেখে পরে।”
অরিন্দম শুনে হেসে ফেলত, কিন্তু গম্ভীরতা ছাড়তে পারত না। তার হাসি অনেকটা নরম, ক্ষণস্থায়ী—ঠোঁটের কোণে সামান্য উঁচু হওয়া, কিন্তু চোখে টলমল করে ওঠা আবছা ক্লান্তি। জয়ন্ত এসব বুঝত; সে কখনো অতিরিক্ত জোর করে না, বরং ধীরে ধীরে, নিজের স্বাভাবিক হাসিঠাট্টার ভেতর দিয়েই অরিন্দমের মনের উপর থেকে কিছুটা ভার কমিয়ে দিত।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনা এগোচ্ছিল, তবে জীবনও ক্রমশ কঠিন হচ্ছিল। বাবার না-থাকা, মায়ের কাঁধে একা সংসারের দায়, অগণিত বিল আর খরচ—সব কিছু মিলিয়ে অরিন্দম বুঝল, শুধু বইয়ের পাতা আঁকড়ে থাকলেই চলবে না, সংসারের আয়েও তাকে অংশ নিতে হবে। নীলিমাকে সাহায্য করতে সে ছোটখাটো কাজ করতে শুরু করল—কখনো কাছের দোকানে ডেলিভারি দেওয়া, কখনো কোনো অফিসে কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া, আবার কখনো টিউশনি করে সামান্য টাকা রোজগার। বয়সের তুলনায় দায়িত্ব অনেক বেশি ছিল, কিন্তু সে এটাকে বোঝা হিসেবে না দেখে, বরং নিজের ভূমিকা হিসেবে গ্রহণ করল।

কলেজে ভর্তির পর তো তাকে নিয়মিত কাজ করতেই হলো। সকালে ক্লাস, দুপুরে অফিসের ছোটখাটো কাজ, সন্ধেয় বাড়ি ফিরে আবার নিজের দায়িত্ব, তারপর রাত জেগে পড়াশোনা—এই ছিল তার জীবন। ফোনে গল্প করার সময় নেই, বন্ধুদের সঙ্গে অবসর আড্ডা নেই, সিনেমা দেখা বা বেড়াতে যাওয়ার বিলাস তো অনেক দূরের কথা। পুজোর ছুটিও তার কাছে শুধু একটু বেশি কাজ করার সুযোগ হয়ে দাঁড়াল—অতিরিক্ত কিছু টাকা জমাতে পারলেই হয়তো কোনো বাকি ফি দেওয়া যাবে, কিংবা মা’কে নতুন শাড়ি কিনে দেওয়া যাবে। কোনো ছুটি নেই, কোনো ঘুরে বেড়ানোর শখ নেই, তবু সে কেমন এক অদৃশ্য জেদ নিয়ে এগিয়ে চলল।

এই পরিশ্রমের মাঝেই ধীরে ধীরে তার ভেতরে গড়ে উঠল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা—জীবনকে কোনোদিন ভয় পাবে না সে। পথে যত বাঁধা আসুক, যত বাধা, যত অপ্রত্যাশিত ঝড়—সে জানে, একবার ভেঙে পড়লে আবার দাঁড়িয়ে যেতে হয়, আর সেটা সে ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছে। পীযুষের ভাঙা শরীরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মনের জেদ, নীলিমার নীরব লড়াই, আর নিজের কষ্ট সত্ত্বেও জয়ন্তের নির্ভার হাসি—এই তিন জনের থেকে অরিন্দম শিখে গেছে, ভয়কে সম্মান করা যায়, কিন্তু তাকে শিরদাঁড়া ভেঙে দিতে দেওয়া যায় না।

নীলিমা ছেলেকে নিয়ে গর্ব করতেন। যদিও তা মুখে খুব কমই বলতেন, তবে চোখে বোঝা যেত—অরিন্দম বাড়ি ফিরলে তাঁর মুখের কড়া ভাব একটু নরম হয়ে যেত, কথা বলার সুরও কোমল হত। রাতে তিনি ছেলের খাতা দেখে দিতেন; অঙ্কের হিসেব মিলছে কিনা, লেখার হাত ঠিক আছে কিনা, বানানে ভুল হচ্ছে কিনা, সেসব দেখতেন মন দিয়ে। কখনো ভুল পেয়ে হালকা ধমক দিতেন, “এই জায়গায় এত তাড়াহুড়া করিস কেন?” আবার কখনো কোনও ভালো লেখা দেখে স্রেফ মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। অরিন্দমের কাছে এই হাতবুলোনোই ছিল সবচেয়ে বড় শান্তি—এ যেন বহু ঝড়ের পর কোনো নিরাপদ নোঙর পেয়ে যাওয়ার মতো।

গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলে চাকরির খোঁজ শুরু করল অরিন্দম। ইন্টারভিউ থেকে ফিরে আসার পথে ব্যর্থতার তিক্ততা সে অনেকবারই গিলে নিয়েছে—কেউ বলেছে “অভিজ্ঞতা কম”, কেউ বলেছে “পরে জানাব”, কেউ আবার সোজা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। অনেক দিন সন্ধ্যার পরে তার মনে হতো, “আমি কি সত্যিই পারব?” কিন্তু প্রতিবারই বাবার সেই কথাটা বুকের ভেতর ধাক্কা মেরে ওঠে—মাথা নত করা যাবে না। বেশ কিছু ব্যর্থতা আর হতাশার পর অবশেষে এক শহুরে অফিসে একটি ছোট পদে কাজ মিলল। পদ ছোট, বেতন কম—কিন্তু দরজাটা সঠিকভাবে খুলে গেল, আর সেই দরজার ওপারে এক নতুন জীবনের সম্ভাবনা দাঁড়িয়ে রইল। সেখানে পৌঁছাতে বছর লেগেছে, পরিশ্রম লেগেছে, অপমান আর অস্বস্তি গিলে খেতে হয়েছে—তবু পথটি এখন পরিষ্কার, অন্তত চলা শুরু করার মতো।

বাবা চলে যাওয়ার পর সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে, অরিন্দম চাকরির জন্য বীরভূম ছাড়ল; এখন কলকাতার এক ভাড়াবাড়িই তার নতুন ঠিকানা।  চাকরির কিছুদিন পর নীলিমা নতুন একটি বিষয়ে ছেলের নজর ঘোরাতে চাইলেন। এতদিন ধরে অরিন্দমের জীবন মানেই ছিল কাজ, পড়াশোনা, দায়িত্ব আর লড়াই—নিজের জন্য একটু আলাদা করে ভাবার সময় যেন তাকে কেউ দেয়নি, সেও নেয়নি। নীলিমা স্বভাবতই শান্ত, কম কথা বলা মানুষ, কিন্তু মনের ভেতর একটি নতুন ভাবনা তখন ধীরে ধীরে মাথা তুলেছে—অরিন্দমের বিয়ে। একদিন সন্ধেয় রান্নাঘরের কাজ সারতে সারতেই খুব সহজভাবে তিনি বললেন,
“অরি, সংসার করলে মানুষ স্থির হয়। অনেক বছর তুই শুধু লড়েছিস… এখন চাইলে একটু নিজের মতো করে জীবন গড়তে পারিস।”
অরিন্দম প্রথমে কিছুই বলল না। তার কাছে “সংসার” বলতে এতদিন ছিল মা আর নিজের দায়িত্ববোধ—মা’কে ভালো রাখা, সংসার টিকিয়ে রাখা, আর নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখা। তবু সে লক্ষ করল, নীলিমার চোখে এক ধরনের নিঃশব্দ ইচ্ছে আছে—ছেলেকে শুধুই যোদ্ধা হিসেবে নয়, একজন স্বামী, ভবিষ্যতের বাবা, আর নিজের মতো করে হাসতে পারা মানুষ হিসেবে দেখতে চাওয়ার ইচ্ছে।

ঠিক সেই সময়ই মালতী দেবী—নীলিমার শৈশবের বান্ধবী—হঠাৎ একদিন ফ্লাট এ এলেন।  কলকাতার কোন আত্মীয়ের বাড়ি এসে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে।  অনেক দিন পর দেখা হওয়ায় কথাবার্তা শুরু হলো পুরনো স্মৃতি দিয়ে—স্কুলের দিন, নদীর ধারে বসে গল্প করা, বৃষ্টির মধ্যে ভিজে বাড়ি ফেরা, আর যৌবনের নানা অদেখা স্বপ্ন। তারপর ধীরে ধীরে কথার স্রোত বর্তমানের দিকে এল। মালতী দেবী আলাপচারিতার ফাঁকে বললেন,
“একটা মেয়ে আছে, খুব ভালো স্বভাবের। শান্ত, ভদ্র। তোর অরিন্দমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে মনে হয়।”
এরপর শুরু হলো পারিবারিক কথাবার্তা, খোঁজখবর, পাত্র–পাত্রী সম্পর্কে তথ্য বিনিময়। কেউ তড়িঘড়ি করল না, কেউ অতিরিক্ত শোরগোলও তুলল না। প্রয়োজনীয় দেখা–সাক্ষাৎ, আত্মীয়স্বজনের মত, নীরবভাবে অরিন্দমের মতামত নেওয়া—সবকিছু খুব সাদামাটা পথে, স্বাভাবিক ছন্দে এগোতে লাগল।

অরিন্দমের সঙ্গে সুতপা দত্তর তখনো আলাপ হয়নি, কেবল নাম আর সামান্য বর্ণনা শুনেছে। সুতপা কেমন? কীসে হাসে, কীসে মন খারাপ হয়, কীভাবে কথা বলে—এসব তার অজানা। তবু সম্বন্ধের কথাবার্তায় কেউ কোনো বিরোধ তুলল না; না পাত্রপক্ষ, না কনেপক্ষ। দু’পক্ষের মধ্যেই যেন এক ধরনের সহজ স্বস্তি ছিল, অতিরিক্ত দাবি বা শর্তের বদলে ছিল পরস্পরের প্রতি ভরসা আর নম্রতা। নীলিমা ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন; অরিন্দমও নিজের জীবনে এক নতুন পথ খোলার কথা, নতুন দায়িত্বের কথা, নতুন সম্পর্কের কথা ভাবতে শুরু করল—হালকা সংশয়, কিন্তু তার চেয়েও বেশি এক অচেনা উত্তেজনা।

বিয়ের দিন অরিন্দম প্রথমবার কাছ থেকে দেখল সুতপাকে। সাদামাটা পরা শাড়ি, খুব বেশি গয়নাগাটি নয়, কম সাজগোজ—কিন্তু তবু চেহারায় এক ধরনের শালীনতা ছিল, যা চোখে পড়ে, কিন্তু চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হয় না। চোখ সবসময় নিচু, মাঝে মাঝে ভ্রু কাঁপে, হাতের আঙুলে সামান্য নার্ভাস নড়াচড়া—কথা কম বলে, তবে কথা বললে তার মধ্যে অদ্ভুত এক স্বচ্ছতা অনুভব করা যায়। সে এমন ধরনের মানুষ নয়, যে ভিড়ের মধ্যে নিজেকে জাহির করে; বরং নিভৃতে, একটু পাশে সরে দাঁড়ালে তাকে আরও পরিষ্কার দেখা যায়।

অরিন্দম নিজের মনে ভাবল,
“শান্ত মেয়ে। সংসার বুঝবে।”
এই ভাবনার ভেতরে ছিল একদিকে আশ্বাস, অন্যদিকে দীর্ঘ দিনের ক্লান্তির পর একটি স্থির আশ্রয়ের প্রত্যাশা।

বিয়ের পর দিনগুলো খুব সাধারণভাবেই কাটতে লাগল। কোনো বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ এসে জীবনকে ওলট–পালট করে দিল না; বরং এক ধরনের নতুন ছন্দ ধীরে ধীরে স্থিতি পেল। সুতপা ঘরের ছোটখাটো কাজগুলো নিখুঁতভাবে সাজিয়ে নিতে জানে—কোনো জিনিস কোথায় রাখলে সুবিধা, কীভাবে কম খরচে ভালো রান্না করা যায়, কীভাবে পুরনো কাপড় সামলে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়—সবই সে ধৈর্য নিয়ে শেখাতে শুরু করল নিজেকে এবং ঘরকে। নীলিমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও খুব দ্রুত গড়ে উঠল; সুতপা কখনো শাশুড়িকে অস্বস্তিতে ফেলেনি, আবার নিজের জায়গাটুকুও নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে তৈরি করেছে।

কোনো আড়ম্বর নেই, কোনো অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস নেই—কিন্তু আচরণে রয়েছে এমন এক প্রৌঢ়তা, এমন এক নরম বুদ্ধিমত্তা যা অরিন্দমকে একরকম নিশ্চিন্ত করে দেয়। অফিস থেকে ফিরে সে দেখে, ঘর গুছিয়ে রাখা আছে, চায়ের কাপ তৈরি, মা আর সুতপা নিঃশব্দে একসঙ্গে বসে কোনো ছোটখাটো বিষয়ে কথা বলছেন—এই দৃশ্য তার ভেতরের বহু লড়াইকে নরম করে দেয়। ধীরে ধীরে অরিন্দম বুঝতে পারল—শান্ত জীবনের স্বাদও অনেক মূল্যবান।

অতিরিক্ত স্বপ্ন নয়, অযথা চাহিদা নয়—একটি ঘর, যেখানে দিন শেষে কেউ অপেক্ষা করে আছে, কেউ দরজা খুলে বলে “এসে গেছ?”—এই অনুভূতিটি এতদিন কেমন যেন অচেনাই ছিল তার কাছে। সে বুঝতে শিখল, কেবল লক্ষ্যে পৌঁছানোই জীবন নয়; মধ্যে মধ্যে থেমে শ্বাস নেওয়া, পাশে তাকিয়ে দেখা, কেউ নিঃশব্দে যত্ন নিচ্ছে কিনা—এসবও থাকা জরুরি।

ক্রমশঃ…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top