
আমি অরিন্দম। আমি কখনও লেখক হতে চাইনি। লিখতে চেয়েছি—এই যা। লেখা আমার কাছে কোনো লক্ষ্য ছিল না, ছিল আশ্রয়। যে কথাগুলো বলা যায় না, যেগুলো জমে থাকে—সেগুলো কাগজে নামিয়ে রাখাই ছিল অভ্যাস। প্রকাশনা, বই, পাঠক—এসব নিয়ে কখনও তেমনভাবে ভাবিনি। মনে হতো, আমার লেখাগুলো বোধহয় আমারই জন্য। ঠিক তখনই আমার জীবনে একদিন শান্তনু প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়েছিল— “অরিন্দম দা, তোমার লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশ করছো না কেন?” আমি হেসেছিলাম। হাসির আড়ালে ছিল দ্বিধা, ভয়, আর নিজের লেখাকে নিয়ে অগাধ অনিশ্চয়তা। বলেছিলাম “কে আমার লেখা প্রকাশ করবে? আমার লেখার মান কি সত্যিই সেই জায়গায় পৌঁছেছে? লিখতে ভালো লাগে, তাই লিখি। এর বেশি কিছু ভাবিনি।” শান্তনু আর কিছু বলেনি। শুধু বলেছিল, “দাঁড়াও, আমি একটা ব্যবস্থা করছি।” এই ওয়েবসাইটটা সেই ‘ব্যবস্থা’। এটা কোনো প্রকাশনা সংস্থা নয়, কোনো বড় ঘোষণা নয়। এটা এক বন্ধুর নিঃশব্দ বিশ্বাস—যে বিশ্বাস বলে, লেখাগুলো শুধু ডায়েরির পাতায় আটকে থাকার নয়।আমি প্রযুক্তি বুঝি না। কম্পিউটার, কোড, অ্যালগোরিদম—এসব আমার জগৎ নয়। আমি শুধু লিখি। আর শান্তনু সেই লেখাগুলো টাইপ করে, সাজিয়ে, যত্ন করে এখানে তুলে ধরে। আমার লেখার বাইরে যে পৃথিবী—পোস্ট করা, পৌঁছে দেওয়া, মানুষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া—সবটাই ও সামলায়। এই জায়গাটা তাই আমার লেখার ঘর। এখানে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কোনো নিখুঁত হওয়ার প্রতিযোগিতা নেই। যদি কোনো লেখা পড়ে আপনার মনে হয়— “এই কথাটা তো আমিও ভাবি,” “এই নীরবতাটা আমারও চেনা”— তাহলেই এই লেখার, এই ওয়েবসাইটের অস্তিত্ব সার্থক। আমি লিখি, কারণ লিখতে ভালো লাগে। আপনি যদি পড়েন—তবে সেটা বাড়তি পাওয়া।